সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ‘অসুস্থতাজনিত কারণ’ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগ জমা দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে গণমাধ্যমকে পদত্যাগের বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি।

জানতে চাইলে সাহাবুদ্দিন বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।” পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।”

স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র তুলে দিচ্ছেন তার সামরিক সচিব

 

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথিক’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এর কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তিনি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসহ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেবেন তিনি।

স্পিকার গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক গিয়েছিলেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তিনি দেশে ফেরেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এর আগে বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্নে বিলম্ব হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।